Friday, April 4, 2025
No menu items!
spot_img
Homeবাংলাদেশবাংলাদেশঃ স্বাধীন সিকিম ও একজন লেন্দুপ দর্জি

বাংলাদেশঃ স্বাধীন সিকিম ও একজন লেন্দুপ দর্জি

স্বাধীনতার পরে সঠিক নেতৃত্ব পেলে আমাদের দেশ বিশ্বের অন্যতম একটি স্বনির্ভর দেশ হতে পারতো, কিন্তু আমরা দেখি রাজনৈতিক নেতারা গত ৫৪ বছর ধরে  দেশটাকে নরক বানিয়ে রেখেছে।

অ্যাড. এম মাফতুন আহমেদ: আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে শত মত,শত পথ। দর্শনের কোন কমতি নেই। এখানে সবাই জ্ঞানী-গুণী। কোথাও কোন ঘাটতি নেই। সবই আমরা ‘নানা’ বাদ কিংবা বিবাদ তৈরিতে বড়ই  অভিজ্ঞ, আর এসব বিজ্ঞদের সৃষ্ট নানা বিকৃত মতবাদের বেশির ভাগই  বলা যায় দেশ এবং জাতি বিরোধী। এসব মত-পথ আর দর্শনের ঠেলাঠেলিতে জাতি আজ দিশাহারা, অসহায়, নীরব, নিশ্চল এবং বলা যায় জিম্মি হয়ে আছে।   

দেখতে দেখতে স্বাধীনতার প্রায় পাঁচ যুগ  পেরিয়ে গেলেও আমরা একটি জাতি হিসেবে এখনো আত্মপ্রকাশ করতে পারি নাই। দৃশ্যতঃ দেশে দালান-কোঠা, রাস্তা-ঘাট, ওভারব্রিজ কিংবা উড়াল সেতুর কিছু উন্নতি হয়েছে কিন্তু নীতি-নৈতিকতা এবং মন-মানসিকতার উন্নতি বলা যায় একদম শুণ্যর কোটায়।

বাংলাদেশের প্রিয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে আক্ষেপের সাথে প্রশ্ন রাখতে চাই যে, বিগত ৫৪ বছর যারা নেতৃত্বের দাবিদার, রাজনৈতিক পালাবদলে যারা ক্ষমতার অংশীদার ছিলেন তারা এই দেশের জন্য কি কি কাজ করেছেন?  বোদ্ধা মহলের মতে, বাংলাদেশে উর্বর মাটি আছে, নদী ভরা মিঠা পানি আছে, মাটির নিচে মহান আল্লাহর দেয়া অফুরন্ত খনিজ আছে, মনোরম আবহাওয়া আছে, চিত্তহরী নিঃসর্গ আছে, সবুজের সমারোহ আছে, মৌন পাহাড় আছে, বিশাল সাগর আছে, ১৭ কোটি মানুষ আছে, তাদের ৩৪ কোটি হাত আছে। তবুও এ দেশ গরীব, এ দেশের জনগণ অসহায়, এরা অন্যের মুখাপেক্ষী। ঘরে-ঘরে ক্রদন রোল, ক্ষুধিতের হাহাকার, মজলুমের আহজারি, হায়েনার অট্রহাসি, পিশাচের কালো হাত প্রতিটা জায়গায় বিস্তার করে আছে। 

স্বাধীনতার পরে সঠিক নেতৃত্ব পেলে আমাদের দেশ বিশ্বের অন্যতম একটি স্বনির্ভর দেশ হতে পারতো, কিন্তু আমরা দেখি রাজনৈতিক নেতারা গত ৫৪ বছর ধরে  দেশটাকে নরক বানিয়ে রেখেছে। মানুষের জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই, সমগ্র জাতি সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি, অসহায়। শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্রের ঝনঝনানি, জনগনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। দেশে অনেক রাজনীতিবিদের জন্ম হয়েছে কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য! দূরদর্শী কোন রাষ্ট্রনায়কের আর্বিভাব ঘটেনি।

জাতীয় নাগরিক ঐক্যর ওভাবে এখনও আমরা দ্বিধা বিভক হয়ে হামাগুড়ি দিয়ে সাবলকত্ব অর্জন করার জন্য জীবন দিয়ে যাচ্ছি। ২৪ এর গণ অভ্যুত্থান ও প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-জনতার অকাতরে জীবন দান তার একটু বড় প্রমাণ।   যেখানে আমাদের স্বপ্ন ছিল এদেশ হবে একটি সোনার বাংলাদেশ। সেখানে আমাদের থেকে পিছিয়ে থাকা মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম হওয়ার স্বপ্নও দেখতে পারি না।  মাথাপিছু আয় বাড়বে, বাড়বে জীবনযাত্রার সার্বিক মান কিন্তু কিছুই হলো না। পারলাম না এসব দেশের ধারের কাছে যেতে। কিন্তু কেন? 

যেখানে কথা ছিল সবাই মিলে একযোগে দেশ উন্নয়নে ঝাঁপিয়ে পড়বো, অথচ,  বিভেদ-অনৈক্য আমাদের ধ্বংসের দ্বার-প্রান্তে নিয়ে গেছে। ঐক্যের বদলে বিভেদের বীজ আমাদের সর্বত্রই এক আশাহীন গন্তব্যের দিকে থেকে দিচ্ছে। এখনো যারা এ দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বিতর্কিত ইস্যু সৃষ্টি করছে, নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে, তারা এ দেশের স্বাধীনতাকে শুরু থেকে কখনও মনে-প্রানে মেনে নিতে পারেনি। এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে তারা বিভাজনের রেখা টানছে না। 

প্রাচীন ভারতবর্ষের মহামতি সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধাণ অমাত্য কৌটিল্য, যিনি চানক্য নামেই সুপরিচিত,তার একটি শিক্ষা ছিল-“ক্ষমতা অর্জনের লোভ ও অন্যদেশ বিজয়ের আকাঙ্খা কখনও মন থেকে মুছে ফেল না। সব সীমান্তবর্তী রাজাকে শত্রু বলে মনে করবে”। চানক্যর আগ্রাসী নীতি আজও প্রতিবেশী দেশসমূহের মধ্যে বলবৎ রয়েছে। এই ধারনার বিপরীতে আমাদেরকে শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার এখন সময় এসেছে। যারা খুনী বাহিনী দিয়ে সীমান্তে পাখির মত প্রতিদিন মানুষ মারছে, ঝরছে ফেলানীদের রক্ত, অভিন্ন ৫৭টি নদীর মধ্যে ৫৪ টি নদীতে বাঁধ দিয়ে আমার দেশকে শুকিয়ে মারার ষড়যন্ত্র করছে, বাংলাদেশের প্রকৃতিকে বিপর্যস্ত করে তুলছে, পানি প্রবাহের অভাবে প্রাণি বৈচিত্র ধ্বংস করছে, নানা অশুভ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করে দেশকে সংঘাতের দিকে উসকে দিচ্ছে, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে, ট্রানজিট-করিডোরের নামে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ধ্বংস করে দেয়ার  ষড়যন্ত্র করছে, ফারাক্কার ন্যায় টিপাইমুখে বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশের অস্তিত্বকে হুমকির মুথে দাঁড় করিয়েছে তারাই আমাদের জাতীয় শত্রু, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বর  শত্রু, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের শত্রু। ১৭  কোটি জনগনের শত্রু।

এরা কারা? এরা তারাই যারা প্রতিবেশীর নামে দাদাগিরি করে, বাংলাদেশকে একটি স্যাটালাইট রাষ্ট্র হিসেবে ভাবে, এরা আমাদের রক্তভেজা স্বাধীনতাকে হরণ করতে চায়। শহীদ স্মৃতিকে মুছে দিতে চায়। 

অবস্থা দৃষ্টে আমাদের আগাম জানান দিচ্ছে যে, অনৈক্য আর বিভেদের কারনে এসব প্রতিবেশী রাষ্ট্র যদি আমাদের সার্বভৌমত্বের ভেতরে কোন দিন সশস্ত্র অবস্থায়  তেড়ে আসে, তাতে অবাক হবার কিছুই নেই।

নেহেরু ডকট্রিন নামে পরিচিত ‘ইন্ডিয়া ডকট্রিন’ যা ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত তার ‘ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া’ বইয়ে এর প্রথম আভাস পাওয়া যায়। মূলত ‘অখণ্ড ভারত’ ধারণা থেকেই এর উদ্ভব, এবং একে একে কাশ্মীর, হায়দ্রাবাদ, সিকিম এবং নেপালের মাওবাদ, শ্রীলংকার তামিল টাইগার বিদ্রোহ এবং সর্বোপরি ১৯৭১ এর যুদ্ধ এবং তারপর  থেকে বাংলাদেশে অযাচিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ইন্ডিয়া  ডকট্রিন তার স্বরূপ উন্মোচন করছে সবার সামনে। 

শুধু বিস্ময়ের সাথে দেখা ছাড়া বলার কিছুই নেই। কারণ এদেশে সিকিমের মত ‘লেন্দুপ দর্জি’র অভাব নেই। তারা সব সেক্টরে কিলবিল করছে। শান্ত নীরব পরিবেশে বসে চায়ে চুমুক দিয়ে নানাভাবে ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছে। 

সিকিমের ইতিহাস 

তিব্বত, নেপাল, ভুটান এবং পশ্চিম বাংলা দ্বারা বৃত্তাবদ্ধ হিমালয়ের পূর্বে অবস্তিত সিকিম একটি মনোমুগ্ধকর রাষ্ট্র। চারটি প্রাচীন সম্প্রদায় সিকিমের আদি ও মূল অধিবাসী। এ গুলো হলো লেপচা, ভূটিয়া, নেপালজ ও সন্স। এরা সকলেই আসাম থেকে এসে সিকিমে সর্বপ্রথম বসতি স্থাপন করে। মূলতঃ সিকিমের ইতিহাস জাতিগত দ্বন্দ্ব ও অস্থিরতার ইতিহাস। 

এর সাথে ছিল পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর সাথে অস্থিরতা এবং নানা জাতিগত বিবাদের কারনে সিকিমের জনগনের ভাগ্য নিয়ন্ত্রনের অধিকার চলে যায় পরাশক্তি এবং আঞ্চলিক শক্তির হাতে। 

শুরু হয় স্বাধীন সিকিমের স্বাধীনতা হরনের ইতিহাস। এ ইতিহাস কম-বেশি সবার জানা আছে। সিকিমের রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে আধিপত্যবাদী ভারত প্রহর গুনছিলো দীর্ঘদিন থেকে। সিকিম সরকার এক পর্যায়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেন। ভারতীয় সৈন্যরা রাজার প্রাসাদ ঘিরে ফেলল। রাজা ‘নাম গয়াল’ ভোরে তার জানালা খুলে দেখলেন, পুরো ‘গ্যাংটক’১ ভারতীয় সৈন্যদের দখলে। সাজানো নির্বাচন হলো। 

রাজতন্ত্রের পতনের পর ১৯৭৫ সালের ১৪ এপ্রিল সিকিমে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে কাজী লেন্দুপ দর্জির দল ব্রট মেজারটি আসন লাভ করে। রাজা চোগিয়াল (ঈযড়মুধষ.ধর্মরাজা) আর লেন্দুপ দর্জির সাপে-নেউলে সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভারত পৃথিবীর মানচিত্র থেকে স্বাধীন সিকিমের নাম মুছে ফেলে। ভারত সরকার সিকিমকে ১৯৭৫ সালে ২৬ এপ্রিল ২২ তম অঙ্গ রাজ্য করতে এক মুহুর্তের  জন্য বিলম্ব করেনি। 

“সাংবাদিক সুধীর শর্মা নেপালের ‘কান্তিপুর’ পত্রিকায় ‘পেইন অব লুজিং এ   নেশন‘(একটি জাতির হারিয়ে যাওয়ার বেদনা) নামে ২০০৭ সালের একটি প্রতিবেদনে জানান,ভারত তার স্বাধীনতার গোড়া থেকেই সিকিম দখলের পরিকল্পনা করেছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু অনেকের সাথে কথোপকথনে তার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন”২।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক পরিচালক অশোক রায়না তার বই ‘ইনসাইড স্টোরী অব ইন্ডিয়াস সিক্রেট সার্ভিস’-এ সিকিম সম্পর্কে লিখেন,-“ভারত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ১৯৭১ সালেই সিকিম দখল করে নেয়া হবে”। সে লক্ষ্যে সিকিমে প্রয়োজনীয় অবস্থা সৃষ্টির জন্য আন্দোলন, হত্যা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা  

নেহরুর পরামর্শ,মদদ ও উৎসাহে সিকিম ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন লেন্দুপ দর্জি। শ্লোগান তুলেছিলেন,‘গণতন্ত্রের সংগ্রাম চলছে,চলবে’। লেন্দুপ দর্জির গণতন্ত্রের  শ্লোগান শুনে সিকিমের সাধারণ জনগণ ভাবতেই পারেনি,এই শ্লোগানের পেছনে প্রতিবেশী  দেশ একটি জাতির স্বাধীনতা হরণ করতে আসছে। সিকিমের জনগণকে দ্বিধাবিভক্ত করে ভারত তার আগ্রাসন সফল করতে এবং এক পক্ষকে ক্ষমতায় এনে তাদের দ্বারা দেশ বিক্রির  প্রস্তাব তুলে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছিল।

বেইমানদের শেষ পরিণতি

বিশ্বাসঘাতক লেন্দুপ দর্জি নিজের দেশকে ভারতের হাতে তুলে দিতে মোটেই কুন্ঠাবোধ করেনি। প্রতিটি নাটকের শেষ অধ্যায় রয়েছে। মানুষের বেলায় ও তাই। যেমন কর্ম  তেমন ফল। লেন্দুপ লর্জির শেষ জীবন বড়ই করুণ। নিষ্ঠুর এক নিয়তি নিয়ে তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। শেষ জীবনে সিকিমে তার জায়গা হয়নি। আশ্রয় নিতে হয়েছিল কোলকাতায়। এখানেই দূরারোগ্য ব্যাধিতে বিনা চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়।

কি দুর্ভাগ্য! কোন ভারতীয় নেতৃবৃন্দ বা রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি এই দুঃসময়ে তার পাঁশে এসে দাঁড়ায়নি। জ্ঞাপন করেনি এতটুকুু সহানুভূতি। এতটুকু ভালবাসা। এটাই বিশ্বাসঘাতক ভিলেনদের শেষ জীবনে নেমে আসে চরম নিয়তি,চরম পরিণতি। এসব দেখেও কী আমাদের শিক্ষা হবে না?

আসলে এসব থেকে কী আমরা কোন শিক্ষা গ্রহণ করেনি? কখনও ভেবেও দেখেনি? জাতীয়তাবাদ বিরোধী নানা অপতৎপরতা একটি জাতিকে তুষের আগুনের মত জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছার-কার করে দি”েছ। সিকিম একদিন স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল। সেই সিকিমের স্বাধীনতা একদিনে হরণ হয়নি। দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের ফসল। ষড়যন্ত্রকারিদের আশা পূর্ণ হয়েছে। অবশেষে  হয়েছে সর্বক্ষেত্রে বাস্তবায়ন। 

আজ এদেশের প্রতিটি সেক্টরে যেভাবে ভারতীয় আগ্রসন চলছে তাতে মনে হয়  বেশি দূরে নয়, সিকিমের মত আমাদের ভবিষ্যতকে শংকিত করে তুলছে। জাতির ললাটে আগামির জন্য কী লেখা আছে একমাত্র মাবুদই জানেন। তবে এতসব ষড়যন্ত্র যেমন তাৎক্ষণিক বুঝতে পারছি না,আপনিও তাই। কিš‘ যখন গোটা জাতির উপলব্ধিতে আসবে তখন এসব ভেঙে-চুরে মিসমার হয়ে যাবে। শুধু সিকিমের মত পরাধীনতার জিঞ্জিরে আবদ্ধ  থেকে স্মৃতি রমাš’ন করা ছাড়া থাকবে না বলার কিছু আর।

শাহবাগ বনাম মৌলবাদী

পরস্পর বিভাজন আর অনৈক্যর সুযোগ নিয়ে ভারত সেদিন সিকিমের স্বাধীনতাকে হরণ করেছিল। বাংলাদেশে বিকৃত নানা ইস্যুর কারনে গোটা জাতি আজ বিভক্ত। কাদের  মোল্লার ফাঁসির ইস্যুতে শহাবাগীদের সে দিনের রঙ্গ-মঞ্চের কথা নিশ্চয় দেশবাসীর মনে আছে। মনে আছে শাহবাগী বিরোধি ‘মৌলবাদীদের ৩ সভা-সমাবেশের কথা। সেদিন মনে হয়েছিল সত্যিই জাতি যেন দ্বিধা-বিভক্ত। কাদের মোল্লার ফাঁসি ছিল একটি রাজনৈতিক হত্যা মামলা। দেশের প্রচলিত আইন-আদালতই উদ্ভুত সমস্যা সমাধানেই যথেষ্ট ছিল। 

অথচ দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে,নির্বাচিত সরকার এবং পার্লামেন্টকে ব্রেক করে কেন শাহাবাগে লাখো জনতার উত্তাল সমাবেশ করা হয়েছিল? কারা করেছিল? কেন করেছিল? কোন প্রতিবেশী দেশের ইঙ্গিতে? কারা সেদিন অর্থেও যোগান দিয়েছিল? সিকিমের ন্যায় আজকের প্রেক্ষাপটে এসব ভাবনার বিষয়।

কেন সেদিন স্বাধীন বিচার ব্যব¯’াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আর একটি প্যারালেল বিচার আদালত সৃষ্টি করা হয়েছিল? এরা কারা? এরা কাদের অর্থে-পুষ্টে লালিত-পালিত? কেন এরা সেদিন শাহবাগ চত্বরে হাজির হয়েছিল? ১৭ কোটি জনগনের একটি অংশ অর্থ  পেলে,পদ-পদবি জুটলে দেশকে বিক্রি করতে কসুর করে না। এই হলো আমাদের জাতীয় চরিত্র। এই হলো দেশত্ববোধ। এই হলো জাতীয়তাবোধ? সেলুকাস কী বিচিত্র এই  দেশ।

লেন্দুপ দর্জিরা কিলবিল করছে। 

আগেই বলেছি এসব কাজে কারা অর্থের যোগান দিয়েছিল? কারা সেদিন লোক সংগ্রহ করেছিল? সবই দেশবাসী জানেন। তবে মন্তব্য করার সময় এখন এসেছে। বহমান ইতিহাস হয়ত বা আগামিতে আরও অনেক কিছু বলে দেবে। 

তবে অপ্রিয় হলেও সত্য কথা যে, বিএনপি’র  জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) আলতাফ হোসেন  ২০২৪ সালে কারা মুক্তির দিন একটি কথা বলেছিলেন। কথাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যা না বললে নয়। তিনি বলেছেন-“ বিএনপি’র কিছু লোক আছে যারা ‘র’ এর এজেন্ট। তারা একবারে পরিচিত নেতা। তাদের ভারতে ব্যবসা আছে,তারা একশো টাকা কামাই করলে নব্বই টাকা ভারতে পাচার করে। যেহেতু আমি ঢাকায় থাকি, আমি এদের নাম বলতে পারি”। ঘরের মধ্যে বিভীষণ। জাতিকে দ্বিধা-বিভক্ত করার এসব নগ্ন রিহার্সালে এরা মগ্ন। 

এই রিহার্সাল অব্যাহত থাকলে একদিন সিকিমের মতো বাস্তবে পরিণত হবে না বৈকি? জাতীয়তাবোধের বড় অভাব। রাষ্ট্র,সমাজ,কূটনীতি,অর্থনীতি সবকিছু ভারতের যূপকাষ্টে বলি। বন্ধুবেশে ভারত যা চা”েছ,তার আগে আমরা সবকিছুই তাদের চরনে ঢেলে দিয়ে এসেছি। কোথায় আমাদের স্বকীয়তা? কোথায় আমাদের স্বাধীনতা? আর কোথায় স্বাধীনতা রক্ষার চেতনা? কেন আমরা অতীত ঐতিহ্যকে ভুলে যেয়ে ভিনদেশী কৃষ্টি সভ্যতা নিয়ে এতো মাখামাখি? এভাবে চললে একদিন আমাদের সিকিমের মত ভাগ্যবরণ কী করতে হবে না? 

মনে রাখতে হবে ভারতের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যারাই আসুক না একমাত্র উদ্দেশ্য অখР ভারত গড়ার স্বপ্ন। আর সে লক্ষ্যে ভারত চায় এর প্রতিবেশী দেশগুলোকে নানাভাবে বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দূর্বল থেকে দূর্বলতর করে সেখানে লেন্দুপ দর্জির মত তাঁবেদার সরকার বসিয়ে দেশটিকে ভারতের সাথে একীভূত করে নিতে। সিকিম তার বড় প্রমাণ। 

ভারতের প্রতিটি প্রতিবেশী দেশের মানুষকে এই অন্তর্নিহিত সত্যটি উপলব্ধিতে রেখে  দেশ পরিচালনা করতে হবে। না হলে এ সবের করুণ পরিণতি সর্বশেষ বিপর্যয় অবধারিত।

 লেখকঃ সিনিয়র আইনজীবী, কলামিষ্ট ও আজাদবার্তা সম্পাদক

সূত্রঃ

১.সিকিমের চারটি জেলা সদরের একটি

২.‘হায়দ্রাবাদ থেকে সিকিম হয়ে বাংলাদেশ,নেহরু ডকট্রিন ও আজকের বাস্তবতা’ ,দৈনিক ‘সংগ্রাম’ শনিবার ২০ জানুয়ারি ২০১৮ 

৩.নিগূঢ় দেশপ্রেম বা একাত্ববাদে বিশ্বাসী

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments